আলমারিতে ওষুধ, তবু প্রাণ যায় সাপের কামড়ে

গওহার নঈম ওয়ারা, গবেষক১৯ জুলাই ২০২০, ০৮:৪১
আপডেট: ১৯ জুলাই ২০২০, ০৮:৪৮

বর্ষা, বন্যায় সাপের ‘উপদ্রব’ বেড়ে যায়। গণমাধ্যমে একের পর এক সাপে কাটা মানুষের মৃত্যুর খবর আসতে থাকে। গত ছয়–সাত সপ্তাহে সারা দেশে প্রায় ৩০ জন মানুষ মারা গেছেন সাপের কামড়ে।

খুবই ক্ষীণ দৃষ্টি, শ্রবণ ও ঘ্রাণশক্তির একটি ‘নিরীহ’ সরীসৃপ প্রাণী হঠাৎ কেন এত মৃত্যুর কারণ হয়ে ওঠে? কেন সাপের কামড়ে আহত ব্যক্তিরা যথাযথ চিকিৎসা–সুবিধা পান না? সাপ যত বিষধরই হোক না কেন, সময়মতো চিকিৎসা পেলে সাপের কামড়ে কারও মৃত্যু হওয়ার কথা নয়।

অস্ট্রেলিয়ান ভেনাম রিসার্চ ইউনিটের প্রধান মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. ডেভিড উইলিয়াম এসব প্রশ্নের জুতসই জবাব দিয়েছেন। তাঁর মতে, সাপে কাটে দরিদ্র এলাকার মানুষদের, গরিবেরাই মরে বেশি; ভাগ্যক্রমে কেউ বেঁচে গেলে তার অবস্থা আরও শোচনীয় হয়ে ওঠে। তাতে নীতিনির্ধারক বা অন্যদের কী যায়–আসে! বিশিষ্ট এই বিজ্ঞানীর (ড. উইলিয়াম) কথা সমাজবিজ্ঞানী বা প্রগতিশীল রাজনীতিবিদের মতো শোনালেও কথাটা খাঁটি।


বর্ষা, বন্যায় সাপের ‘উপদ্রব’ বেড়ে যায়। গণমাধ্যমে একের পর এক সাপে কাটা মানুষের মৃত্যুর খবর আসতে থাকে। গত ছয়–সাত সপ্তাহে সারা দেশে প্রায় ৩০ জন মানুষ মারা গেছেন সাপের কামড়ে।

খুবই ক্ষীণ দৃষ্টি, শ্রবণ ও ঘ্রাণশক্তির একটি ‘নিরীহ’ সরীসৃপ প্রাণী হঠাৎ কেন এত মৃত্যুর কারণ হয়ে ওঠে? কেন সাপের কামড়ে আহত ব্যক্তিরা যথাযথ চিকিৎসা–সুবিধা পান না? সাপ যত বিষধরই হোক না কেন, সময়মতো চিকিৎসা পেলে সাপের কামড়ে কারও মৃত্যু হওয়ার কথা নয়।

অস্ট্রেলিয়ান ভেনাম রিসার্চ ইউনিটের প্রধান মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. ডেভিড উইলিয়াম এসব প্রশ্নের জুতসই জবাব দিয়েছেন। তাঁর মতে, সাপে কাটে দরিদ্র এলাকার মানুষদের, গরিবেরাই মরে বেশি; ভাগ্যক্রমে কেউ বেঁচে গেলে তার অবস্থা আরও শোচনীয় হয়ে ওঠে। তাতে নীতিনির্ধারক বা অন্যদের কী যায়–আসে! বিশিষ্ট এই বিজ্ঞানীর (ড. উইলিয়াম) কথা সমাজবিজ্ঞানী বা প্রগতিশীল রাজনীতিবিদের মতো শোনালেও কথাটা খাঁটি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ২০৩০ সালের মধ্যে সাপের কামড়ে মৃত্যু অর্ধেকে কমিয়ে আনার লক্ষ্যে নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করেছে। এই লক্ষ্যে গঠিত কোর ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য ড. উইলিয়াম। তিনি বলেছেন, ‘আমাদের একটা সমন্বিত, সাশ্রয়ী এবং টেকসই ব্যবস্থা খুঁজে বের করতে হবে। না হলে আমরা প্রজেক্টের মধ্যেই ঘুরপাক খাব আর মানুষ মরতেই থাকবে।’

বাংলাদেশে এখন মাতৃমৃত্যু অপেক্ষা সাপের কামড়ে মৃত্যুর হার বেশি। দেশে প্রতিবছর প্রায় সাত লাখ মানুষকে সাপে কামড় দেয়। এর মধ্যে প্রতিদিন ১৬-২০ জন মানুষ মারা যায়, বছর শেষে সেই হিসাব ৬-৭ হাজারে গিয়ে ঠেকে। এটা আনুমানিক হিসাব। সব শবের গণনা হয় না। জন্মনিবন্ধন হলেও সম্প্রতি ভাগাভাগির বিষয় না থাকলে মৃত্যুনিবন্ধন নিয়ে কেউ মাথা ঘামায় না।

তবে বর্ষার সময় মৃত্যুহারটা বেড়ে যায়। বাড়ে সাপে কাটা রোগীর সংখ্যাও। এ সময় প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে সাপে কাটা রোগীকে উপযুক্ত হাসপাতালে আনার পথে মৃত্যু ঘটে। গত ৬–৭ সপ্তাহে যে ৩০ জনের মৃত্যু ঘটেছে, তাঁদের প্রায় সবাই এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ছোটাছুটি করতে গিয়ে মারা যান।

২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মারা গিয়েছিলেন স্কুলশিক্ষক আয়েশা আক্তার (২৭)।টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার কাঞ্চনপুর দক্ষিণপাড়া গ্রামের আয়েশাকে ২০ সেপ্টেম্বর বুধবার রাত আটটায় বিষধর সাপ কামড় দেয়। ৮টা ৪৩ মিনিটে তিনি ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন। সেখানে তিনি লেখেন, ‘টাঙ্গাইলে সাপের ভ্যাকসিন (অ্যান্টিভেনাম) কোথায় পাওয়া যায়?’ তাঁর সেই স্ট্যাটাসে অনেক আহা–উহু মার্কা ইমেজ আর উত্তর এলেও কেউ সঠিক তথ্য দিতে পারেনি। আয়েশাদের বাড়ির চারদিকে তখন বর্ষার পানি। তাই নৌকা দিয়ে তাঁকে প্রথমে প্রধান সড়কে নেওয়া হয়। তারপর গাড়িতে করে মির্জাপুর কুমুদিনী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, সেখানে সাপে কাটার অ্যান্টিভেনাম নেই। কোথায় পাওয়া যাবে অ্যান্টিভেনাম, সে তথ্য কুমুদিনী তাঁদের দিতে পারেনি।

নিরুপায় আত্মীয়স্বজন ঢাকায় রওনা দেন রাত একটায়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে এসে পৌঁছালে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। তাঁর পরিবার এই অকালমৃত্যু মেনে নিতে পারেনি। সাপে কাটা মানুষ নাকি কয়েক দিন বেঁচে থাকে, এমন বিশ্বাসের ওপর ভর করে পরদিন ২১ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার বেলা দুইটার দিকে আয়েশাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানেও তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

আয়েশার কাহিনি এখানেই শেষ হলে আফসোস কিছু কম হতো। স্রেফ পেশাদারত্বের তাগিদে একজন সংবাদকর্মী টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক চিকিৎসক পুতুল রায়কে ফোন করলে তিনি জানান, সাপে কাটার অ্যান্টিভেনাম টাঙ্গাইল সিভিল সার্জনের তত্ত্বাবধানে থাকে। চাহিদা দেওয়ামাত্রই আ্যন্টিভেনাম পাওয়া যায়। প্রথমে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে আনা হলে হয়তো সাপে কাটা রোগীকে বাঁচানো সম্ভব হতো। অর্থাৎ তরুণ শিক্ষক আয়েশা আক্তার মারা গেলেন তথ্যের অভাবে। বাড়ির কাছে সিভিল সার্জনের আলমারিতে ওষুধ থাকতে তাঁকে নিয়ে স্বজনেরা ছুটেছেন কুমুদিনী, বঙ্গবন্ধু মেডিকেল, ময়মনসিংহ মেডিকেলে—ফলাফল মৃত্যু।

বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কাছ থেকে পাওয়া অ্যান্টিভেনাম সিভিল সার্জনের কাছ থেকে চাহিদা পাওয়ার ভিত্তিতে জেলা সদরে সরবরাহ করা হয়ে থাকে। অনেক সিভিল সার্জন নানা অজুহাতে অ্যান্টিভেনামের চাহিদা পাঠান না। সাপে কামড়ানোর পর একেকজন রোগীকে ১০টি করে অ্যান্টিভেনাম দিতে হয়। খোলাবাজারে এগুলো অনেক দামে বিক্রি হয় আর ‘স্লো আইটেম’ বিবেচনায় খুব কম ফার্মেসি এগুলোর মজুত রাখে। রাখলেও মেয়াদ–তারিখের পরোয়া করে না।

কেন এমন হয়

ওই যে ড. ডেভিড উইলিয়াম যে কথা বলেছেন, সাপের কামড়ে গরিব দেশের গরিব মানুষ বেশি মারা যান। সেটাই মূল কারণ। সাপের কামড়ে মৃত্যু রোধের ব্যবস্থাপনা অবহেলিত রোগবালাইয়ের (নেগলেকটেড ডিজিজ) তালিকায় পড়ে আছে।

প্রতিবছর ঠিক কত মানুষ মারা যাচ্ছেন সাপের কামড়ে, তার সঠিক কোনো হিসাব কোথাও পাওয়া যাবে না। জানা যাবে না তাঁদের পেশা কী ছিল, বয়স কত, কী চিকিৎসা পেয়েছিলেন, অ্যান্টিভেনাম কাজ করেছে কি করেনি, কিংবা সাপটার জাত কী ছিল। ১০ বছর আগে ২০১০ সালে একটা জরিপ করা হয়েছিল, সেটাই এখন পর্যন্ত থোড় বড়ি খাড়া আর খাড়া বড়ি থোড় করে চালানো হচ্ছে। এখন পর্যন্ত সাপের কামড়ের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার জন্য কোনো কর্মকৌশল তৈরি হয়নি। বাংলা না–জানা লোকদের দিয়ে ইংরেজিতে একটা খসড়া চিকিৎসা নির্দেশিকা বা গাইডলাইন তৈরি করে ইন্টারনেটে ছাড়া হয়েছে মতামতের জন্য।

এই খসড়ার ওপর ভিত্তি করে গত সপ্তাহে (৯ জুলাই ২০২০) অনলাইন প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছিল। আয়োজকদের দাবি, এই অনলাইন প্রশিক্ষণে ৩০০টির মতো স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ও এর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। ৪২ পাতার গাইডলাইন দিয়ে ৩০০–৪০০ মানুষকে ১৫–২০ মিনিটের মধ্যে অনলাইন প্রক্রিয়ায় কীভাবে প্রশিক্ষিত করে তোলা যায়, তা এক রহস্য। কথিত গাইডলাইন অনুযায়ী অ্যান্টিভেনামের মজুত, বিতরণ, প্রশিক্ষণ—এসব বিষয় চুকিয়ে ফেলতে হবে এপ্রিল–মে মাসের মধ্যে। করোনার অজুহাতে এবার সেটা হয়নি। কিন্তু কখনো কোনো বছরে সেটা সময়মতো হয় কি?

সিঙ্গাপুর, চীন, জাপানের উদাহরণ টেনে লাভ নেই। আমাদের অর্থনীতিবিদেরা যে দেশকে আমাদের চেয়ে অনেক পিছিয়ে থাকা একটি দেশ মনে করেন, সেই পাপুয়া নিউগিনিতে ২০০৩ সালে প্রতি ৪ জনে ১ জন শিশু সাপের কামড়ে মারা যেত। এখন সেটা কমে প্রতি ৫০ জনে ১ জনের নিচে নেমে এসেছে। শুধু ইচ্ছা আর সৎ নিয়তের জোরেই তারা এটা করতে পেরেছে। আমাদের দেশে এ হার কমিয়ে আনার জন্য দরকার নিরাপদ ও কার্যকর অ্যান্টিভেনাম এবং প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মী।

কার্যকর অ্যান্টিভেনাম কী

আমাদের হাসপাতালে যে অ্যান্টিভেনাম ব্যবহার করা হয়, তার পুরোটাই আসে ভারত থেকে। এগুলো তৈরি তামিলনাড়ুতে। সেখানকার স্থানীয় সাপের বিষ দিয়ে তারা তাদের অ্যান্টিভেনাম তৈরি করে থাকে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুসারে, সাপের কামড়ের রোগীর চিকিৎসার জন্য স্থানীয় সাপ থেকে অ্যান্টিভেনাম তৈরি হলে তা সবচেয়ে কার্যকর হয়। কারণ, একেক দেশের সাপের প্রকৃতি একেক রকম। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আমাদের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে বছরে যে ছয় হাজার অ্যান্টিভেনাম দিয়ে থাকে, সেটাও আনা হয় ভারত থেকে।

ভারতে যেসব সাপ থেকে ভেনাম সংগ্রহ করা হয়, সেগুলোর ২০ শতাংশ মাত্র বাংলাদেশের সাপের সঙ্গে মেলে। ভারতের নিজের রাজ্য বাংলাদেশ লাগোয়া পশ্চিমবঙ্গেই এখন তামিলনাড়ুর তৈরি অ্যান্টিভেনামের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। গত বছরের ৩ নভেম্বর রোববার পশ্চিম মেদিনীপুরের নীরদ বরণকে সাপে কামড়ালে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় পাঁশকুড়ার হাসপাতালে। চিকিৎসকেরা তাঁকে অ্যান্টিভেনাম দিয়েছিলেন, কিন্তু কোনো কাজ হয়নি, তিনি মারা গেছেন। বিশেষ করে ২০১৬ সালের পর অ্যান্টিভেনাম কাজ না করার ঘটনা ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকে।

তামিলনাড়ু থেকে পাইকারি বা বাল্ক ভেনাম আমদানি করে প্রক্রিয়াজাতের মাধ্যমে অ্যান্টিভেনাম ইনজেকশন বিক্রি করে দেশের একটি ওষুধ প্রতিষ্ঠান। ভারতে গোখরা, কেউটে, চন্দ্রবোড়া ও স্কেলড (একধরনের আঁশযুক্ত সাপ)—এই চার ধরনের সাপ থেকে ভেনাম (বিষ) সংগ্রহ করা হয়। এই সাপগুলোর কোনো কোনোটা বাংলাদেশে নেই। আবার কোনো কোনো প্রজাতির সাপ ভারতের চেয়ে বাংলাদেশে বেশি আছে।

বিকল্পের খোঁজে বাংলাদেশ

আট কোটি টাকা ব্যয়ে ২০১৭ সালে দেশে প্রথমবারের মতো অ্যান্টিভেনাম তৈরির লক্ষ্যে একটি প্রকল্প নেওয়া হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আর্থিক সহায়তায় পাঁচ বছর মেয়াদি অ্যান্টিভেনাম তৈরির প্রকল্পটিতে যুক্ত হয়েছেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগ, টক্সিকোলজি সোসাইটি অব বাংলাদেশ এবং জার্মানির গ্যেটে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞরা। জার্মানি থেকে জীববিজ্ঞানীরা এসে নিজেকে নিরাপদ রেখে বিষধর সাপ ধরা ও সাপগুলোকে খাইয়ে সুস্থ অবস্থায় বাঁচিয়ে রাখার জন্য প্রশিক্ষণ দিয়ে গেছেন। ২০১৭ সালের জুলাই মাস থেকে শুরু এই প্রকল্প শেষ হবে ২০২২ সালে। সে হিসাবে বলা যায়, অ্যান্টিভেনাম তৈরির কাজটি এখন একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। এর মধ্যে আমরা করোনাকালে বন্দী হয়ে গেছি। সবকিছুর সঙ্গে গবেষণাও বিঘ্নিত হচ্ছে, আমরা পিছিয়ে যাচ্ছি, কিন্তু সাপের কামড়ে মানুষের মৃত্যু বন্ধ নেই।

বিশেষ প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মী কেন

এক গবেষণায় জানা যায়, সাপের কামড়ে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে চিকিৎসকের কাছে যায় মাত্র ৩ শতাংশ ব্যক্তি। যারা যায় বা যাদের নিয়ে যাওয়া হয়, তারা একান্ত বাধ্য হয়ে যায়। তার আগে স্থানীয়ভাবে নানা চেষ্টা তারা করে। বেশির ভাগ সময়ই স্থানীয় চেষ্টা সফল হয়, কারণ দেশের ৮২ থেকে ১০০ প্রজাতির সাপের মধ্যে মাত্র ছয় ধরনের সাপ বিষধর। বাকিগুলো কামড়ালে কিছু হয় না। কোনো চিকিৎসা ছাড়াই ওই রোগীরা সুস্থ হয়ে যান। কথিত ওঝারা সেই সুযোগটা কাজে লাগান। মানুষ মনে করে, ওঝার ঝাড়ফুঁকে সাপে কাটা রোগী ভালো হয়ে যায়। তাই বিষ–নির্বিষনির্বিশেষে সাপের কামড়ে মানুষ আগে ছোটে ওঝার কাছে। তাতে নষ্ট হয় গুরুত্বপূর্ণ সময়। রোগী ততক্ষণে শকে বা কোমায় চলে যায়। এ অবস্থায় পেশাদার চিকিৎসক বড় অসহায় হয়ে পড়েন। কারণ, রোগীর কাছ থেকে সাপের বিস্তারিত জানা সেই অবস্থায় সম্ভব হয় না। কিন্তু এটাই হচ্ছে চিকিৎসার প্রথম ধাপ।

রোগীর সঙ্গে আসা লোকদের মধ্যে অনেক সময় প্রত্যক্ষদর্শী কেউ থাকেন না। রোগী সাপের বর্ণনা দিতে না পারলে তাকে বা প্রত্যক্ষদর্শীকে সাপের ছবি দেখিয়ে কখনো কখনো সাপের ধরন সম্পর্কে নিশ্চিত হতে হয়। এসব কাজের জন্য দরকার ধৈর্য ও অভিজ্ঞতা। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নবীন স্বাস্থ্যকর্মীদের অভিজ্ঞ ও ধৈর্যশীল করে তোলা সম্ভব। অনেক সময় রোগীর পরিস্থিতি দেখেও সাপের জাত নির্ণয় করা সম্ভব, যেমন গোখরা সাপ কামড় দিলে স্থানটি ফুলে যায়, স্নায়ুতন্ত্রে বিষক্রিয়া (নিউরোটক্সিন) হয়, রোগীর চোখ বন্ধ হয়ে যেতে থাকে। সবুজ সাপ কামড়ালে স্থানটি ফুলে যায় ও রক্ত ঝরে। চন্দ্রবোড়া কামড়ালে এসব লক্ষণের পাশাপাশি প্রস্রাব বন্ধ হয়ে যায়। আর কেউটে কামড়ালে স্নায়ুতন্ত্রে বিষক্রিয়া ঘটে।

মাঠপর্যায়ে যেসব স্বাস্থ্যকর্মী আছেন, তাঁদেরও সাপে কাটা রোগীর প্রাথমিক ব্যাবস্থাপনা সম্পর্কে সম্যক ধারণা থাকা প্রয়োজন। এখনো সাপে কামড়ালে সাবেকি পদ্ধতিতে আক্রান্ত ব্যক্তির হাত বা পা এমন শক্ত করে বাঁধা হয় যে রক্ত চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। এতে কারও কারও গ্যাংগ্রিনও হয়ে যায়। এত শক্ত করে বাঁধার কোনো প্রয়োজন নেই। আক্রান্ত হাত বা পা যেন নড়াচড়া করা না হয়, সেদিকে লক্ষ রাখলেই হবে। সে ক্ষেত্রে সতর্কতা হিসেবে হাত বা পায়ের দুই পাশে কাঠের টুকরা দিয়ে কাপড় দিয়ে আলতো করে বেঁধে যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসকের কাছে নিয়ে আসতে হবে। তা ছাড়া পল্লি এলাকার বাস্তবতা এবং সাপের ধরন সম্পর্কে জ্ঞান হালনাগাদ করার জন্য মাঠপর্যায়ে নিয়মিত আলোচনার কোনো বিকল্প নেই।

বাংলাদেশের উপজেলা পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালগুলোর মধ্যে ঈশ্বরদী হাসপাতালের বেশ নামডাক আছে। ২০১১ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত স্বাস্থ্যসেবায় বিশেষ অবদান রাখায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পরপর ১২টি জাতীয় পুরস্কার ও পদক পায় এই হাসপাতাল। কিন্তু এখানেও সাপে কাটা রোগীদের চিকিৎসার কোনো ব্যবস্থা নেই।

দেশে সব বিষধর সাপের বিষের অ্যান্টিভেনাম তৈরি ও ইউনিয়ন পর্যন্ত মজুত রাখার ব্যবস্থা ডিজিটাল বাংলাদেশে অসম্ভব নয়। মনে রাখতে হবে, বর্ষা, বন্যায় সাপের উপদ্রব কেবল জলমগ্ন এলাকার সমস্যা থাকে না। সাপ মানুষের আগেই বন্যাপ্রবণ এলাকা ছেড়ে শুকনা এলাকায় চলে যায়। তাই বন্যা এলাকার চেয়ে বন্যামুক্ত এলাকায় সাপে কাটা রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি দেখা যায়। বর্ষার সময় সারা দেশে সাপে কাটা রোগীর ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে বাড়তি নজর দিতে হবে। প্রতিদিন গণমাধ্যমে প্রচার করতে হবে, কোন হাসপাতালে কত পরিমাণ অ্যান্টিভেনাম মজুত আছে। এই সাধারণ তথ্য টাঙ্গাইলের বাসাইলের স্কুলশিক্ষক আয়েশা আক্তারের প্রাণ রক্ষা করতে পারত; প্রাণ রক্ষা করতে পারে হাজার হাজার আয়েশার।

লেখক: গবেষক, nayeem5508@gmail.com

7 WORDS TO MAKE YOUR ESSAYS SOUND MORE ACADEMIC

1. Indeed

A term used by academics. Put this word at the beginning of a sentence and no one will ever question whether your point is correct or not. It is a way to let people know you are 100% sure of what you are saying.

Example: Indeed, Shakespeare was one of the most famous writers of his time.

2. Nonetheless

For every argument you make in an essay, the opposite arguments must also be made so you can prove that your side of the argument is more correct. This is where the word nonetheless comes in. It says that in spite of the opposite argument, the point of your essay is still valid.

Example:  Their donation was quite small. Nonetheless, it was for a worthy cause.

 

3. Thus

Short, but elegant. This means “as a result of,” or “due to this.” Thus is a great word that can be used to begin your concluding sentence.

Example: I crossed the finish line first, thus becoming the winner.

 

4. Furthermore

This word is perfect for combining ideas; furthermore lets people know that you are adding more information to a sentence without sounding too boring about it.

Example: Paris is a great place to visit because of its scenery. Furthermore, it has beautiful summers.”

 

5. Anomaly

An anomaly is something that stands out from the rest of your argument. If you have a series of results, or a list of objects, and a particular result does not fit in with the rest, then this is an anomaly.

Example: All of the results fit my theory, except for one anomaly, which appears to disagree.

 

6. Methodology

The “must-have” word of any academic essay. If your essay has an argument, how did you get to it? Whether you read a few books, or conducted an extensive set of interviews and studies, the way you form your argument sounds instantly smarter by calling it your methodology.

Example: The methodology I used for this essay was complicated yet revealing.

 

7. Concur

To agree with, or to be of the same opinion. This can be very useful in an essay when going through the opinions of other researchers and/or academics.

Example: A selection of academics concur that the results show and increase in city pollution.

”FAR” কিভাবে বের করবেন ? কোটি টাকা দামের একটা বিষয় একজন প্রকৌশলীর কাছে !!! এখুনি হিসাবটা শিখে নিন

ধরুন, আপনার ৫ কাঠা জমি রয়েছে। ভেবে রেখেছেন ৮-১০ তলা উঁচু বাড়ি বানাবেন । টাকা- পয়সা নিয়েও ঝামেলা নেই । কিন্তু আপনি জানেন কি ? আপনি চাইলেও ৫ কাঠা জমিতে ১০ তলা বানাতে পারবেন না রাজউকের নিয়মানুযায়ী । কারন একটা ভবন বানানোর সময় বিল্ডিং এর চারপাশে কিছু জায়গা ছেড়ে দিয়ে তারপর ডিজাইন করতে হয় । সেটাকে সেটব্যাক বলে । আমরা শুধুমাত্র ফার নিয়ে আলোচনা করবো আজকে।

FAR জানার সুবিধাঃ

১. ফার জানলে যেকোনো ভালো অফিসে চাকরির গ্যারান্টি অনেকখানি বেড়ে যায় ।

২. বাড়ি কত তলা করতে পারবেন সেটা নিজেই হিসাব করতে পারবেন অংক করে ।

FAR এর হিসাব করবেন যেভাবেঃ

মনে করি,

ভূমি- ৫ কাঠা,

রোড- ২০ ফুট,

ফার- ৩.৫ ( ইঞ্জিনিয়ারিং বইগুলোতে শুধুমাত্র ফার লিখে কত কাঠার জন্য কত ফার সেটা উল্লেখ থাকে কিন্তু হিসাব থাকে না । অনেক বড় বড় পণ্ডিত মার্কা ইঞ্জিনিয়াররাও ফারের হিসাব পারে না। তাই আপনি যদি ফারের হিসাব শিখে রাখেন তাহলে বুক চাপড়ে নিজেকে নিয়ে গর্ব করতেই পারেন । কারন ফারের হিসাব জানা অনেকটা আর্থিক বিষয়ে জড়িত । যেহেতু, ভালো চাকরি করতে চাইলে ফার জানতেই হবে।)

Maximum Build Area (M.B.A)= Land x Far

= 5 katha x 3.5    (far 3.5)

= 5x(720)x3.5    ( 1 katha=720square ft)

= 3600×3.5

=12600 sqft

Maximum Ground Coverage(M.G.C)- 62.5% ( এটাও লেখা থাকে বইতে কিন্তু যারা পারে না তারা এইসব লেখাকে অনর্থক ভেবে বসে থাকে। হেহেহে )

= 5 katha x 62.5%

= (5x 720) x 62.5%

= 2250 sqft.

Number of Floor (N.O.F)= MBA / MGC

= 12600 / 2250

= 5.6 Floor

Total Floor = Ground floor + 5.6 floor

= 1+ 5.6 floor

= 6.6 floor ( ৬ তলা বাড়ি এবং চিলেকোঠা) ।

এই হিসাবে প্রায় সাত তলা কিন্তু সাত তলা না করাই ভালো যদি ভুমিকম্প থেকে বাঁচাতে চান এবং সারা এলাকাতে আপনার বাড়িটি যদি মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকবে সেটা চান !!!

জেনে নিন শাহজালাল বিমানবন্দরে বিদেশী পণ্যের ট্যাক্স তালিকা

বিডিটাইমস ডেস্ক
জেনে নিন শাহজালাল বিমানবন্দরে বিদেশী পণ্যের ট্যাক্স তালিকা

চাকরি, পড়াশোনা, ভ্রমণ শেষে বিদেশ থেকে দেশে ফেরার সময় সবাই-ই কম বেশি বিদেশী পণ্য নিয়ে আসেন। একজন যাত্রী নির্দিষ্ট পরিমাণ বা নির্দিষ্ট কিছু পণ্য বিনা ট্যাক্সে বহন করতে পারেন। অতিরিক্ত বা নির্দিষ্ট পণ্যের বাইরে অন্য কোনো পণ্য হলে তার উপর কাস্টমস কে নির্দিষ্ট পরিমাণ ট্যাক্স পরিশোধ করতে হয়। অনেক সময় অসতর্কতার কারণে অনেককে ক্রয়কৃত পণ্য এয়ারপোর্টে ফেলে আসতে হয়। তাই আসুন এ বিষয়ে বিস্তারিত জেনে নিই। এই ট্যাক্স এর তালিকা বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। শুধুমাত্র ব্যক্তিগত ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য।

শুল্ক বা করবিহীন আমদানি:
একজন যাত্রী হাতব্যাগ, কেবিনব্যাগ এবং ৬৫ কিলোগ্রাম ওজনের বেশি নয় এমন দুটি কার্টুন/ব্যাগ/বস্তা, ৩২ ইঞ্চি দৈর্ঘ্যের দুইটি স্যুটকেস বা ট্র্যাংক ইত্যাদি কোনো প্রকার শুল্ক ও কর পরিশোধ ছাড়াই বিমানবন্দর দিয়ে দেশে আনতে পারবে। আর স্থলবন্দর ব্যবহার করা হলে সর্বোচ্চ ৪০০ মার্কিন ডলারের পণ্য আনা যাবে।
উল্লেখিত ব্যাগেজের অতিরিক্ত অনুর্ধ্ব ৩৫ কিলোগ্রাম ওজনের একটি স্যুটকেস, ট্র্যাংক, কার্টুন, ব্যাগ বা বস্তায় পরিধেয় বস্ত্র, ব্যক্তিগত ব্যবহারের সামগ্রী, বই-সাময়িকী এবং পড়াশুনার সামগ্রী কোনো প্রকার শুল্ক ও কর ছাড়াই আমদানি করতে পারবেন।

১২ বছরের কম বয়সের যাত্রীর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৪০কিলোগ্রাম ব্যক্তিগত ব্যাগেজের জন্য কোনো প্রকার শুল্ক ও কর পরিশোধ করতে হয় না। পেশাগত কাজে ব্যবহার্য এবং সহজে বহনযোগ্য যন্ত্রপাতিও সকল প্রকার শুল্ক ও কর পরিশোধ ছাড়াই আমদানি করা যাবে।

আকাশ, জলপথ বা স্থলপথে দেশে আসা যে কোনো অসুস্থ, পঙ্গু অথবা বৃদ্ধ যাত্রীর ক্ষেত্রে তার ব্যবহার্য চিকিৎসার যন্ত্রপাতি ও হুইল চেয়ার তার সাথে থাকবে। এক্ষেত্রে কোনো প্রকার শুল্ক বা কর পরিশোধ করতে হবে না।

কোন বাংলাদেশি নাগরিক বিদেশে মৃত্যুবরণ করলে তার ব্যাগেজ দেশে আনার জন্য কোনো প্রকার শুল্ক ও কর দিতে হবে না।

একজন যাত্রী সর্বোচ্চ ২০০ গ্রাম ওজনের স্বর্ণ অথবা রুপার অলংকার বহন করতে পারবেন। এগুলো তার ব্যক্তিগত ব্যবহারের অলংকার বলে ধরে নেওয়া হবে। তবে এক ধরণের অলংকার ১২টির বেশি রাখতে পারবেন না। এক্ষেত্রে কোনো প্রকার শুল্ক ও কর পরিশোধ পরিশোধ করতে হবে না।

স্বর্ণের বার আমদানির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২০০ গ্রাম পর্যন্ত বহন করা যাবে। তবে এক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পরিমাণে শুল্ক পরিশোধ করতে হবে।
বিদেশি পাসপোর্টধারী কোনো যাত্রী দুই বোতল অথবা ১ লিটার পর্যন্ত মদ বা মদ্য জাতীয় পানীয় যেমন-স্প্রিট, বিয়ার, ইত্যাদি বহন করতে পারবেন। এক্ষেত্রে তাকে কোনো প্রকার শুল্ক ও কর পরিশোধ করতে হবে না।

ক্রু, নাবিক এবং বাংলাদেশি এয়ার লাইন্সে কর্তব্যরত কোন বাংলাদেশি তার পেশাগত দায়িত্বের কারণে বিদেশ থেকে ব্যাগেজ আনতে বিশেষ সুবিধা পাবেন।  নির্দিষ্ট কিছু বস্তুর ক্ষেত্রে শুল্ক বা কর দিতে হয় না তাদের।

বিমানবন্দরে করণীয়:
কোন যাত্রী শুল্ক ও কর আরোপযোগ্য পণ্য বহন না করলে তিনি বিমানবন্দরের গ্রিন ও রেড চ্যানেল (যদি থাকে) ব্যবহার করতে পারবেন। গ্রিন চ্যানেল অতিক্রমকারী সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ যাত্রীর ব্যাগেজ দৈবচয়নের ভিত্তিতে স্ক্যানিং ও পরীক্ষা করার অধিকার রাখেন শুল্ক কর্মকর্তারা। তবে যে কোনো শুল্ক কর্মকর্তা, যুক্তিসংগত বা সন্দেহবশত হয়ে গ্রিন চ্যানেল অতিক্রমকারী যে কোন যাত্রীর ব্যাগেজ স্ক্যানিং ও পরীক্ষা করতে পারবেন।

বিনাশুল্কে যেসব ব্যাগেজ আনা যায় তার অতিরিক্ত বা ভিন্ন কোনো পণ্য আমদানি করলে প্রধান আমদানি ও রপ্তানি নিয়ন্ত্রকের (সিসিআইঅ্যান্ডই) ছাড়পত্র দেখিয়ে, সব শুল্ক-কর, অর্থদণ্ড ও জরিমানা (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) পরিশোধের পর ব্যাগেজ আনতে পারবেন।

কোনো যাত্রীর কাছে ৫ হাজার মার্কিন ডলার বা সমপরিমাণ অর্থের বেশি অন্য যে কোনো দেশের বৈদেশিক মুদ্রা থাকলে তা ব্যাগেজ ঘোষণা ফরমে উল্লেখ করতে হবে। সঙ্গে আনা হয়নি এমন কোনো স্যুটকেস, ব্যাগ, কার্টুন বা ট্র্যাংক থাকলে তাও ঘোষণা ফরমে উল্লেখ করতে হবে।

যেসব পণ্যের ক্ষেত্রে শুল্ক ও কর দিতে হবে:
ব্যক্তিগত ও গৃহাস্থলির কাজে ব্যবহৃত হয়না এমন পণ্য, দুইটির বেশি স্যুটকেস (তৃতীয় স্যুটকেসে পরিধেয় বস্ত্র, ব্যক্তিগত ব্যবহার্য সামগ্রী, বই-সাময়িকী এবং পড়াশুনার সামগ্রী থাকলে শুল্ক ও কর দিতে হবে না) এবং আমদানিকৃত যে কোনো বাণিজ্যিক পণ্যের ক্ষেত্রে নিয়মমাফিক শুল্ক ও কর প্রদান করতে হবে।

ব্যক্তিগত ও গৃহাস্থলির কাজে ব্যবহৃত এমন কিছু পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে অবশ্যই শুল্ক ও কর প্রদান করতে হয়। যেমন-প্লাজমা, এলসিডি, টিএফটি, এলইডি এবং যে কোনো উন্নত প্রযুক্তির টেলিভিশন।

মিউজিক সেন্টার, হোম থিয়েটার সিস্টেম, সিডি/ভিসিডি/ডিভিডি/এলডি/এমডি/ব্লু রেডিস্ক সেট, রেফ্রিজারেটর বা ডিপ ফ্রিজার, এয়ার কুলার, এয়ার কন্ডিশনার, ডিশ এন্টেনা, এইচডি ক্যাম, ডিভি ক্যাম, বিইটিপি ক্যাম ও পেশাদারী ব্যবহার উপযোগী কোনো ক্যামেরা, এয়ারগান, এয়ার রাইফেল, ঝাড়বাতি, কার্পেট (১৫ বর্গমিটার পর্যন্ত), ডিশ ওয়াশার, ওয়াশিং মেশিন, ক্লথ ড্রাইয়ার ইত্যাদির ক্ষেত্রেও সরকার নির্ধারিত শুল্ক ও কর প্রদান করতে হবে।

স্বর্ণ বা রুপার বার সর্বোচ্চ ২০০ গ্রাম আমদানি করা যাবে। স্বর্ণ প্রতি ১১.৬৬৪ গ্রাম ১৫০ টাকা এবং রুপার ক্ষেত্রে প্রতি ১১.৬৬৪ গ্রাম ৬টাকা হারে সরকারকে শুল্ক ও করা হবে।

বিভিন্ন সরঞ্জামের শুল্ক ও করের পরিমাণ:

১. প্লাজমা, এলসিডি, টিএফটি, এলইডি ও অনুরূপ প্রযুক্তির টেলিভিশন/ মনিটর
ক.    ২২”-২৯”  – ১৫,০০০.০০টাকা
খ.    ৩০”-৩৬” – ২০,০০০.০০টাকা
গ.    ৩৭”-৪২” – ৩০,০০০.০০টাকা
ঘ.    ৪৩”-৪৬” – ৫০,০০০.০০টাকা
ঙ.    ৪৭”-৫২” – ৭০,০০০.০০টাকা
চ.    ৫৩”এর বেশি – ১,০০,০০০.০০ টাকা

২. চার থেকে আটটি স্পিকারসহ (মিউজিক সেন্টার)/ স্পিকার নির্বিশেষে হোম থিয়েটার (সিডি/ ভিসিডি/ ডিভিডি/ এলডি/এমডি/বু রেডিস্ক সেট) – ৮,০০০.০০টাকা
৩. রেফ্রিজারেটর/ডিপ ফ্রিজার  – ৫,০০০.০০টাকা

৪. এয়ার কুলার/এয়ার কন্ডিশনার:
ক.    উইনডো টাইপ – ৭,০০০.০০টাকা
খ.    স্প্লিট টাইপ (১৮ হাজার বিটিইউ পর্যন্ত) – ১৫,০০০.০০টাকা
গ.    স্প্লিট টাইপ (১৮ হাজার বিটিইউ এর বেশি) – ২০,০০০.০০টাকা

৫. ডিশ এন্টেনা – ৭,০০০.০০টাকা
৬. এইচডি/ডিভি/বেটা বা পেশাদারি ক্যামেরা – ১৫,০০০.০০টাকা
৭. এয়ারগান/এয়ার রাইফেল (বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে আমদানিযোগ্য, আমদানি নীতি আদেশ ২০০৯-২০১২ অনুযায়ী) – ৫,০০০.০০টাকা
৮. ঝাড়বাতি (প্রতি পয়েন্ট)  – ৩০০.০০টাকা
৯. কার্পেট ১৫ বর্গমিটার (প্রতি বর্গমিটার) – ৩০০.০০টাকা
১০. ডিশ ওয়াশার/ওয়াশিং মেশিন/ক্লথ ড্রাইয়ার – ৩,০০০.০০টাকা

যেসব ইলেকট্রনিকস পণ্যের ক্ষেত্রে শুল্ক ও কর দিতে হবে না:
সর্বোচ্চ ২১” পর্যন্ত সাধারণ টেলিভিশন, ক্যাসেট প্লেয়ার, টু-ইন-ওয়ান, ডিস্কম্যান, ওয়াকম্যান (অডিও), বহনযোগ্য অডিও সিডি পেয়ার, ডেস্কটপ বা ল্যাপটপ কম্পিউটার (একটি ইউপিএস সহ), স্ক্যানার, প্রিন্টার, ফ্যাক্স মেশিন, সাধারণ ভিডিও ক্যামেরা, স্টিল ক্যামেরা, ডিজিটাল ক্যামেরা, সাধারণ সিডি ও দুইটি স্পিকারসহ কম্পোনেন্ট মিউজিক সেন্টার, সিডি/ভিসিডি/ডিভিডি/এলডি/এমডি সেট, চারটি স্পিকারসহ কম্পোনেন্ট মিউজিক সেন্টার, ভিসিআর/ভিসিপি, ব্লু-রেডিস্ক প্লেয়ার, এলসিডি কম্পিউটার মনিটর ১৯” পর্যন্ত, একটি মোবাইল বা সেলুলার ফোন সেট, সাধারণ পুশবাটন, কর্ডলেস টেলিফোন সেট, ইলেকট্রিক ওভেন, মাইক্রোওয়েভ ওভেন, রাইস কুকার, প্রেসার কুকার, গ্যাস ওভেন (বার্নার সহ), টোস্টার, স্যান্ডউইচ মেকার, ব্লেন্ডার, ফুড প্রসেসর, জুসার, কফি মেকার, বৈদ্যুতিক টাইপরাইটার, গৃহস্থালী সেলাই মেশিন (ম্যানুয়াল ও বৈদ্যুতিক), টেবিল ও প্যাডেস্টাল ফ্যান, গৃহস্থালী সিলিং ফ্যান, ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য স্পোর্টস সরঞ্জাম, ১ কার্টন (২০০ শলাকা) সিগারেট ইত্যাদি বহন করার ক্ষেত্রে কোনো শুল্ক বা কর পরিশোধ করতে হয় না।

শীঘ্রই আসছে স্মার্ট কার্ড, অনলাইনে পরিবর্তন করুন আপনার ছবি

বিডিটাইমস ডেস্ক
শীঘ্রই আসছে স্মার্ট কার্ড, অনলাইনে পরিবর্তন করুন আপনার ছবি

জাতীয় পরিচয়পত্র একটি নাগরিকের পরিচয়সহ নানা সুযোগসুবিধা নিশ্চিত করে। পরিচয়পত্রে নাম ঠিকানা ভুল কিংবা ছবি খারাপ এসেছে এমন অভিযোগ অনেকের। সময় এসেছে এসব সংশোধনের। এখন আপনিও পারবেন খুব সহজেই এই কাজগুলো করতে।

প্রতিদিন হাজার হাজার নাগরিক জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন। আমরা অনেকেই জানি না বর্তমানে অনলাইনে আবেদন করে নতুন ভোটার হওয়া যায়। তাছাড়া জাতীয় পরিচয়পত্র বা ভোটার আইডির জন্য আবেদন করে সংশোধন করা যায়। একইসঙ্গে হারিয়ে গেলে, কোনো তথ্য সংশোধন বা ছবি পরিবর্তনও করা যাবে অনলাইনে।

খুব শিগগির দেয়া হচ্ছে স্মার্ট কার্ড। তাই স্মার্ট কার্ড পাওয়ার আগেই সচিত্রে আলোচনা দেখে খুব সহজেই অনলাইনে জাতীয় পরিচয়পত্র বা ন্যাশনাল আইডি কার্ডের ছবি পরিবর্তন, তথ্য পরিবর্তন ও নতুন ভোটার হবার বিস্তারিত নিয়মকানুন জানতে পারবেন। জেনে নিন বিস্তারিত-

 

অনলাইনে জাতীয় পরিচয়পত্রের কি কি পরিবর্তন আপনি নিজেই করতে পারবেন?

* তথ্য পরিবর্তন

* ঠিকানা পরিবর্তন

* ভোটার এলাকা স্থানান্তর

* পুনঃমূদ্রণ

* ছবি পরিবর্তন

*আবেদনপত্রের হাল অবস্থা

 

কিভাবে ছবি পরিবর্তন ও তথ্য হালনাগাদ ও আপনার সকল ডাটাবেজ দেখতে পারবেন?

প্রথমে রেজিষ্ট্রেশন করতে এই লিংকে যান https://services.nidw.gov.bd/registration (এই সাইট https ফরম্যাটে হওয়াতে আপনার ফায়ারফক্স ব্রাউজারে এটা লেখা আসতে পারে This Connection is Untrusted সেক্ষেত্রে সমাধান হলো প্রথমে Understand the Risks ক্লিক করেন তারপর।

* On the warning page, click I Understand the Risks.

* Click “Add Exception‘…. The Add Security Exception dialog will appear.

* Click “Confirm Security Exception” ক্লিক করুন সাইট চলে আসবে।

 

কারা অনলাইন সেবার জন্য রেজিষ্ট্রেশন করতে পারবেন

আপনি ভোটার হয়ে থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করে এই ওয়েবসাইটের সুবিধা নিন। রেজিষ্ট্রেশন করতে নিম্মের ধাপসমূহ অনুসরণ করুন-

১. প্রয়োজনীয় তথ্যাবলী পূরণ করে নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করুন।

২. আপনার কার্ডের তথ্য ও মোবাইলে প্রাপ্ত এক্টিভেশন কোড সহকারে লগ ইন করুন।

৩. তথ্য পরিবর্তনের ফর্মে তথ্য হালনাগাদ করে সেটির প্রিন্ট নিয়ে নিন।

৪. প্রিন্টকৃত ফর্মে স্বাক্ষর করে সেটির স্ক্যানকৃত কপি অনলাইনে জমা দিন।

৫. তথ্য পরিবর্তনের স্বপক্ষে প্রয়োজনীয় দলিলাদি কালার স্ক্যান কপি অনলাইনে জমা দিন।

এবার “রেজিষ্ট্রেশনফরম পূরণ করতে চাই” ক্লিক করুন।

 

এবার ফরমটি সঠিক ভাবে পুরণ করুন

* এন.আই.ডি নম্বরঃ (আপনার এন.আই.ডি নম্বর যদি ১৩ সংখ্যার হয় তবে অবশ্যই প্রথমে আপনার জন্মসাল দিয়ে নিবেন উদাহরণঃ আপনার কার্ড নাম্বার ১২৩৪৫৬৭৮৯১০০০ ও জন্মসাল ১৯৯০ আপনি এভাবে দিবেন১৯৯০১২৩৪৫৬৭৮৯১০০০)

* জন্ম তারিখঃ (কার্ড দেখে সিলেক্ট করুন)

*মোবাইল ফোন নম্বরঃ (আপনার সঠিক মোবাইল নাম্বার দিন কারণ মোবাইলে ভেরিফাই কোড পাঠাবে)

* ইমেইলঃ (ইচ্ছা হলে দিতে পারেন না দিলে সমস্যা নাই, ইমেইল আইডি দিলে পরবর্তীতে লগইন করার সময় ভেরিফাই কোড ইমেইলে সেন্ড করতে পারবেন যদি মোবাইল হাতের কাছে না থাকে)

* বর্তমান ঠিকানা: বিভাগ জেলা উপজেলা/থানা সিলেক্ট করুন ভোটার হবার সময় যা দিয়েছিলেন।

* স্থায়ী ঠিকানা: বিভাগ জেলা উপজেলা/থানা সিলেক্ট করুন ভোটার হবার সময় যা দিয়েছিলেন।

* লগইন পাসওয়ার্ড: পাসওয়ার্ড অবশ্যই ৮ সংখ্যার হতে হবে বড় হাতের অক্ষর ও সংখ্যা থাকতে হবে যেমনঃ InfoPedia71

এবার সঠিক ভাবে ক্যাপচার পূরণ করুন ছোট হাতের বড় হাতের অক্ষর বা সংখ্যা যা দেওয়া আছে তাই বসান তবে স্পেস দিতে হবেনা । এবার “রেজিষ্টার” বাটন ক্লিক করে দ্বিতীয় ধাপে চলে যান।

ফরম টি সঠিক ও সফল ভাবে রেজিস্টার করার পর দেখুন আপনার মোবাইলে ভেরিফাই কোড এসেছে ও ব্রাউজারে ঐ কোড সাবমিট করার অপশন এসেছে, নিচের ছবির মত স্থানে আপনার মোবাইলের ভেরিফিকেশন কোড বসান ও রেজিস্টার বাটনে ক্লিক করুন।

 

(২ মিনিটের মধ্যে মোবাইলে কোড না আসলে পুণরায় কোড পাঠান (SMS) ক্লিক করুন)

সঠিক ভাবে কোড প্রবেশ করার পর আপনার Account Active হয়ে যাবে এবার একটি পেইজ আসবে আপনাকে লগইন করতে বলা হবে অথবা লগইন লিংক https://services.nidw.gov.bd/login

লগইন করতে আপনার জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর (১৩ সংখ্যার হলে অবশ্যই প্রথমে আপনার জন্মসাল দিয়ে নিবেন) জন্মতারিখ ও আপনার দেওয়া পাসওয়ার্ড দিয়ে ভেরিফাই কোড কিভাবে পেতে চান তা সিলেক্ট করতে হবে।

রেজিস্ট্রেশন করা মোবাইল নাম্বার আপনার হাতের কাছে থাকলে মোবাইলে তা না হলে ইমেইলে সিলেক্ট করুন।

এবার “সামনে” ক্লিক করুন।

এবার আপনার সিলেক্ট করা অপশন মোবাইলে বা ইমেইল থেকে ভেরিফাই কোড বসিয়ে লগইন করুন।

দুই মিনিটের মধ্যে যদি কোড না আসে তবে “পুনরায় কোড পাঠান” বাটনে ক্লিক করুন।

নির্বাচন কমিশনের কাছে থাকা আপনার ডাটাবেজের সব তথ্য দেখা যাবে এবার। নিচের যেকোনো অপশনে চাহিদা অনুযায়ী ক্লিক করুন আর তথ্য হালনাগাদ করুন। এভাবেই আপনি আপনার জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য সংশোধন কিংবা ছবি পরিবর্তন করতে পারবেন খুব সহজেই।

কিভাবে অনলাইনে নতুন ভোটার হওয়া যাবে?

অনলাইনে ভোটার হবার আবেদন করতে এই লিংকে যান https://services.nidw.gov.bd/newVoter

আপনার ভোটার তথ্য পুরণ করুন। অনলাইনে ভোটার হতে নিচের শর্ত গুলো ভাল করে পড়ে নিন এবং “আমি রাজি ও নিবন্ধন ফরম পূরণ করতে চাই” ক্লিক করুন।

 

নতুন ভোটার নিবন্ধন !!

১) নতুন ভোটার হিসাবে নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় আপনাকে স্বাগত জানাই।

ক) ভূমিকাঃ

* অনলাইন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আপনি সঠিকভাবে ভোটার রেজিষ্ট্রেশন ফর্ম পূরণ করতে পারবেন)

* আপনি ইতোমধ্যে ভোটার হয়ে থাকলে পুনরায় আবেদন করার প্রয়োজন নেই। নিবন্ধিত ব্যাক্তি পুনরায় আবেদন করলে সেটি দন্ডনীয় অপরাধ

* নতুন ১৮ বয়সের অধিক,  প্রবাসী বা বাদপড়া ভোটারগণ এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিবন্ধন করতে পারবেন।

* বিস্তারিত জানার জন্য এখানে ক্লিক করুন।

খ। ধাপসমূহঃ

* ধাপে ধাপে সকল তথ্য সঠিকভাবে পূরণ করুন।

* নিজের পূর্ণনাম ছাড়া সকল তথ্য বাংলায় ইউনিকোডে পুরণ করুন।

* সকল ধাপ সম্পন্ন হবার পরে প্রিভিউ এর মাধ্যমে সকল তথ্য পুনর্বার যাচাই করে নিন।

* পিডিএফ ফাইল তৈরি করে সেটি প্রিন্ট করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সহ নিকটস্থ নির্বাচন অফিসে জমা দিন।

*আপনার প্রদত্ত তথ্যাদি যাচাই এবং ঠিকানা যাচাইয়ের পরে তথ্যাদি সঠিক নিশ্চিত হলে আপনার কার্ড তৈরি হবে।

*কার্ডের রশিদ জমা দিয়ে কার্ড সংগ্রহ করুন।

* ফরমের সাথে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টের কপি জমা দিন

জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন সংক্রান্ত

১।প্রশ্নঃ কার্ডের তথ্য কিভাবে সংশোধন করা যায়?

উত্তরঃ এনআইডি রেজিস্ট্রেশন উইং/উপজেলা/থানা/জেলা নির্বাচন অফিসে ভুল তথ্য সংশোধনের জন্য আবেদন করতে হবে। সংশোধনের পক্ষে পর্যাপ্ত উপযুক্ত দলিলাদি আবেদনের সাথে সংযুক্ত করতে হবে।

২।প্রশ্নঃ কার্ডে কোন সংশোধন করাহলে তার কি কোন রেকর্ড রাখা হবে?

উত্তরঃ সকল সংশোধনের রেকর্ড সেন্ট্রাল ডাটাবেজে সংরক্ষিত থাকে।

৩।প্রশ্নঃ ভুল ক্রমে পিতা/স্বামী/মাতাকে মৃত হিসেবে উল্লেখ করা হলে সংশোধনের জন্য কি কি সনদ দাখিল করতে হবে?

উত্তরঃ জীবিত পিতা/স্বামী/মাতাকে ভুলক্রমে মৃত হিসেবে উল্লেখ করার কারণে পরিচয়পত্র সংশোধন করতে হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিচয়পত্র দাখিল করতে হবে।

৪।প্রশ্নঃ আমি অবিবাহিত। আমার কার্ডে পিতা না লিখে স্বামী লেখা হয়েছে। কিভাবে তা সংশোধন করা যাবে?

উত্তরঃ সংশ্লিষ্ট উপজেলা/থানা/জেলা নির্বাচন অফিসে আপনি বিবাহিত নন মর্মে প্রমাণাদিসহ আবেদন করতে হবে।

৫।প্রশ্নঃ বিয়ের পর স্বামীর নাম সংযোজনের প্রক্রিয়া কি?

উত্তরঃ নিকাহনামা ও স্বামীর আইডি কার্ড এর ফটোকপি সংযুক্ত করে NID Registration Wing/ সংশ্লিষ্ট উপজেলা/ থানা/ জেলা নির্বাচন অফিস বরাবর আবেদন করতে হবে।

৬।প্রশ্নঃ বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে গেছে। এখন ID Card থেকে স্বামীর নাম কিভাবে বাদ দিতে হবে?

উত্তরঃ বিবাহ বিচ্ছেদ সংক্রান্ত দলিল (তালাকনামা) সংযুক্ত করে NID Registration Wing/সংশ্লিষ্ট উপজেলা/ থানা/ জেলা নির্বাচন অফিসে আবেদন করতে হবে।

৭।|প্রশ্নঃ বিবাহ বিচ্ছেদের পর নতুন বিবাহ করেছি এখন আগের স্বামীর নামের স্থলে বর্তমান স্বামীর নাম কি ভাবে সংযুক্ত করতে পারি?

উত্তরঃ প্রথম বিবাহ বিচ্ছেদের তালাকনামা ও পরবর্তী বিয়ে কাবিননামাসহ সংশোধন ফর্ম পূরণ করে আবেদন করতে হবে।

৮।প্রশ্নঃ আমি আমার পেশা পরিবর্তন করতে চাই কিন্তু কিভাবে করতে পারি?

উত্তরঃ এনআইডি রেজিস্ট্রেশন উইং/উপজেলা/জেলা নির্বাচন অফিসে প্রামাণিক কাগজপত্র দাখিল করতে হবে। উলেখ্য, আইডি কার্ডে এ তথ্য মুদ্রণ করা হয় না।

৯।প্রশ্নঃ আমার ID Card এরছবি অস্পষ্ট, ছবি পরিবর্তন করতে হলে কি করা দরকার?

উত্তরঃ এক্ষেত্রে নিজে সরাসরি উপস্থিত হয়ে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগে আবেদন করতে হবে।

১০।প্রশ্নঃ নিজ/পিতা/স্বামী/মাতার নামের বানান সংশোধন করতে আবেদনের সাথে কি কি দলিল জমা দিতে হবে?

উত্তরঃ এসএসসি/সমমান সনদ, জন্ম সনদ, পাসপোর্ট, নাগরিকত্ব সদন, চাকুরীর প্রমাণপত্র, নিকাহ্‌নামা, পিতা/স্বামী/মাতার জাতীয় পরিচয়পত্রের সত্যায়িত কপি জমা দিতে হয়।

১১.প্রশ্নঃ নিজের ডাক নাম বা অন্যনামেনিবন্ধিত হলে সংশোধনে রজন্য আবেদনের সাথে কি কি দলিল জমা দিতে হবে?

উত্তরঃ এসএসসি/সমমান সনদ, বিবাহিতদের ক্ষেত্রে স্ত্রী/ স্বামীর জাতীয় পরিচয়পত্রের সত্যায়িত কপি, ম্যাজিট্রেট কোর্টে সম্পাদিত এফিডেভিট ও জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি, ওয়ারিশ সনদ,ইউনিয়ন/পৌর বা সিটি কর্পোরেশন হতে আপনার নাম সংক্রান্ত প্রত্যয়নপত্র।

১২।প্রশ্নঃ পিতা/মাতাকে ‘মৃত’ উল্লেখ করতে চাইলে কিকি সনদ দাখিল করতে হয়?

উত্তরঃ পিতা/মাতা/স্বামী মৃত উল্লেখ করতে চাইলে মৃত সনদ দাখিল করতে হবে।

১৩।প্রশ্নঃ ঠিকানা কিভাবে পরিবর্তন/ সংশোধন করা যায়?

উত্তরঃ শুধুমাত্র আবাসস্থল পরিবর্তনের কারণেই ঠিকানা পরিবর্তনের জন্য বর্তমানে যে এলাকায় বসবাস করছেন সেই এলাকার উপজেলা/ থানা নির্বাচন অফিসে ফর্ম ১৩ এর মাধ্যমে আবেদন করা যাবে। তবে একই ভোটার এলাকার মধ্যে পরিবর্তন বা ঠিকানার তথ্য বা বানানগত কোন ভুল থাকলে সাধারণ সংশোধনের আবেদন ফরমে আবেদন করে সংশোধন করা যাবে।

১৪।প্রশ্নঃ আমি বৃদ্ধ ও অত্যন্ত দরিদ্র ফলে বয়স্কভাতা বাঅন্য কোন ভাতা খুব প্রয়োজন।কিন্তু নির্দিষ্ট বয়স নাহওয়ার ফলে কোন সরকারী সুবিধা পাচ্ছিনা।লোকে বলে ID Card –এ বয়সটা বাড়ালে ঐ সকল ভাতা পাওয়া যাবে?

উত্তরঃ ID Card এ প্রদত্ত বয়স প্রামাণিক দলিল ব্যতিত পরিবর্তন সম্ভব নয়। উল্লেখ্য, প্রামানিক দলিল তদন্ত ও পরীক্ষা করে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

১৫।প্রশ্নঃ একই পরিবারের বিভিন্ন সদস্যের কার্ডে পিতা/মাতার নাম বিভিন্ন ভাবে লেখাহয়েছে কিভাবে তাসংশোধন করা যায়?

উত্তরঃ সকলের কার্ডের কপি ও সম্পর্কের বিবরণ দিয়ে NID Registration Wing/ উপজেলা/ জেলা নির্বাচন অফিস বরাবর পর্যাপ্ত প্রামাণিক দলিলসহ আবেদন করতে হবে।

১৬।প্রশ্নঃ আমি পাশনাকরে ও অজ্ঞতা বশতঃশিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি বা তদুর্দ্ধ লিখেছিলাম এখন আমার বয়স বা অন্যান্য তথ্যা দিসংশোধনের উপায়কি?

উত্তরঃ আপনি ম্যাজিট্রেট আদালতে এস.এস.সি পাশ করেননি, ভুলক্রমে লিখেছিলেন মর্মে হলফনামা করে এর কপিসহ সংশোধনের আবেদন করলে তা সংশোধন করা যাবে।

১৭।প্রশ্নঃ ID Card এ অন্য ব্যক্তির তথ্য চলে এসেছে। এ ভুল কি ভাবে সংশোধন করা যাবে?

উত্তরঃ ভুল তথ্যের সংশোধনের পক্ষে পর্যাপ্ত দলিল উপস্থাপন করে NID Registration Wing/সংশ্লিষ্ট উপজেলা/থানা/জেলা নির্বাচন অফিসে আবেদন করতে হবে। এক্ষেত্রে বায়োমেট্রিক যাচাই করার পর সঠিক পাওয়া গেলে সংশোধনের প্রক্রিয়া করা হবে।

১৮।প্রশ্নঃ রক্তের গ্রুপ অন্তর্ভূক্ত বা সংশোধনের জন্য কি করতে হয়?

উত্তরঃ রক্তের গ্রুপ অন্তর্ভুক্ত বা সংশোধন করতে রক্তের গ্রুপ নির্ণয়কৃত ডায়াগনোসটিক রিপোর্ট দাখিল করতে হয়।

১৯।প্রশ্নঃ বয়স/জন্ম তারিখ পরিবর্তন করার প্রক্রিয়া কি?

উত্তরঃ এসএসসি বা সমমানের পরীক্ষার সনদের সত্যায়িত ফটোকপি আবেদনের সাথে জমা দিতে হবে। এসএসসি বা সমমানের সনদ প্রাপ্ত না হয়ে থাকলে সঠিক বয়সের পক্ষে সকল দলিল উপস্থাপনপূর্বক আবেদন করতে হবে। আবেদনের পর বিষয়টি তদন্তপূর্বক প্রয়োজনে ডাক্তারী পরীক্ষা সাপেক্ষে সঠিক নির্ধারণ করে প্রয়োজনীয় সংশোধন করা হবে।

২০।প্রশ্নঃ স্বাক্ষর পরিবর্তন করতে চাই, কিভাবে করতে পারি?

উত্তরঃ নতুন স্বাক্ষর এর নমুনাসহ গ্রহণযোগ্য প্রমাণপত্র সংযুক্ত করে আবেদন করতে হবে। তবে স্বাক্ষর একবারই পরিবর্তন করা যাবে।

২১।প্রশ্নঃ আমার জন্মতারিখ যথাযথ ভাবে লেখা হয় নি, আমার কাছে প্রামাণিক কোন দলিল নেই, কিভাবে সংশোধন করা যাবে?

উত্তরঃ সংশ্লিষ্ট উপজেলা/জেলা নির্বাচন অফিসে আবেদন করতে হবে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

২২।প্রশ্নঃ একটি কার্ড কতবার সংশোধন করা যায়?

উত্তরঃ এক তথ্য শুধুমাত্র একবার সংশোধন করা যাবে। তবে যুক্তিযুক্ত না হলে কোন সংশোধন গ্রহণযোগ্য হবে না।

২৩।প্রশ্নঃ ID Card হারিয়ে গিয়েছে। কিভাবে নতুন কার্ড পেতে পারি?

উত্তরঃ নিকটতম থানায় জিডি করে জিডির মূল কপিসহ সংশ্লিষ্ট উপজেল/থানা নির্বাচন অফিসারের কার্যালয়ে অথবা ঢাকায় জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগে আবেদন করতে হবে।

২৪।প্রশ্নঃ হারানো আইডি কার্ড পেতে বা তথ্য সংশোধনের জন্য কি কোন ফি দিতে হয়?

উত্তরঃ এখনো হারানো কার্ড পেতে কোন প্রকার ফি দিতে হয় না। তবে ভবিষ্যতে হারানো আইডি কার্ড পেতে/সংশোধন করতে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ফি ধার্য করা হবে।

২৫।প্রশ্নঃ প্রাপ্তি স্বীকার পত্র/স্লিপ হারালে করণীয় কি?

উত্তরঃ স্লিপ হারালেও থানায় জিডি করে সঠিক ভোটার আইডি নাম্বার দিয়ে হারানো কার্ডের জন্য আবেদন পত্র জমা দিতে হবে।

২৬।প্রশ্নঃ প্রাপ্তিস্বীকারপত্র / ID Card হারিয়ে গেছে কিন্তু কোন Document নেই বা NID নম্বর/ভোটার নম্বর/স্লিপের নম্বর নেই, সেক্ষেত্রে কি করণীয়?

উত্তরঃ সংশ্লিষ্ট উপজেলা/ থানা/ জেলা নির্বাচন অফিস থেকে Voter Number সংগ্রহ করে NID Registration Wing/ উপজেলা/ থানা নির্বাচন অফিসারের কার্যালয়ে আবেদন করতে হবে।

২৭।প্রশ্নঃ জাতীয় পরিচয় পত্রে নেই কিন্তু তথ্য পরিবর্তিত হয়েছে এমন তথ্যাদিপরিবর্তন কি ভাবে সম্ভব?

উত্তরঃজাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগে এ সংক্রান্ত কাগজপত্রাদি সহ আবেদন করলে যাচাই-বাছাই করে বিবেচনা করা হবে।

২৮।প্রশ্নঃ আমি যথাসময়ে ভোটার হিসেবে Registration করতে পারিনি। এখন কি করা যাবে?

উত্তরঃ সংশ্লিষ্ট উপজেলা/থানা/জেলা নির্বাচন অফিসে যথাযথ কারণ উল্লেখপূর্বক আবেদন করতে পারেন।

২৯।প্রশ্নঃ আমি বিদেশে অবস্থানের কারণে Voter Registration করতে পারিনি, এখন কি ভাবে করতে পারবো?

উত্তরঃ সংশ্লিষ্ট উপজেলা/থানা/জেলা নির্বাচন অফিসে বাংলাদেশ পাসপোর্ট-এর অনুলিপিসহ জন্ম সনদ, নাগরিকত্ব সনদ, এসএসসি (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) সনদ, ঠিকানার সমর্থনে ইউটিলিটি বিলের কপি বা বাড়ী ভাড়া বা হোল্ডিং ট্যাক্সের রশিদের কপিসহ আবেদন করতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট ফর্মসমূহ পূরণ করতে হবে।

৩০।প্রশ্নঃ আমি ২০০৭/২০০৮ অথবা ২০০৯/২০১০ সালে ভোটার রেজিস্ট্রেশন করেছি কিন্তু সেইসময় আইডি কার্ড গ্রহণ করিনি।এখন কিভাবে আইডিকার্ড পেতে পারি?

উত্তরঃ আপনি আপনার ভোটার রেজিস্ট্রেশনের সময় প্রদত্ত প্রাপ্তি স্বীকার পত্রটি নিয়ে যে স্থানে ভোটার হয়েছেন সেই এলাকার উপজেলা/থানা নির্বাচন অফিসে যোগাযোগ করুন। যদি সেখানেও না পাওয়া যায় তাহলে প্রাপ্তি রশিদে উপজেলা নির্বাচন অফিসারের মন্তব্যসহ স্বাক্ষর ও সিল দিয়ে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগে যোগাযোগ করা যাবে।

৩১।প্রশ্নঃ ভোটার তালিকার নামের সাথে বিভিন্ন খেতাব, পেশা, ধর্মীয় উপাধি, পদবী ইত্যাদি যুক্ত করা যাবে কি না?

উত্তরঃ ভোটার তালিকার ডাটাবেজে শুধুমাত্র নাম সংযুক্ত করা হয়, কোন উপাধি বা অর্জিত পদবী তাতে সংযুক্ত করার অবকাশ নাই।

৩২।প্রশ্নঃ কোথা হতে ID Card সংগ্রহ করা যাবে?

উত্তরঃ যে এলাকায় ভোটার রেজিস্ট্রেশন করেছেন সেই এলাকার উপজেলা/থানা নির্বাচন অফিস থেকে ID Card সংগ্রহ করা যাবে।

৩৩।প্রশ্নঃআমি বিদেশে চলে যাব। আমার কার্ডকি অন্য কেউ উত্তোলন করতে পারবে?

উত্তরঃ হ্যাঁ। আপনার ক্ষমতা প্রাপ্ত প্রতিনিধির যথাযথ ক্ষমতাপত্র ও প্রাপ্তি স্বীকারপত্র (Authorization Letter) নিয়ে তা সংগ্রহ করাতে পারবে।

৩৪।প্রশ্নঃ কার্ডে ইচ্ছাকৃ তভুল তথ্য দিলে কিহবে?

উত্তরঃ জেল বা জরিমানা অথবা উভয় দন্ডে দণ্ডিত হতে পারে।

৩৫।জাতীয় পরিচয় পত্র নম্বর ১৩ আবার কারো ১৭ কেন?

উত্তরঃ ২০০৮ এর পরে যত আইডি কার্ড প্রিন্ট করা হচ্ছে বা পুণঃ তৈরি হচ্ছে সে সকল কার্ডের নম্বর ১৭ ডিজিট হয়ে থাকে।

৩৬।প্রশ্নঃ বিভিন্ন দলিলে আমার বিভিন্ন বয়স/নাম আছে। কোনটা ভোটার রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে?

উত্তরঃ এসএসসি অথবা সমমানের পরীক্ষার সনদে উল্লেখিত বয়স ও নাম। ভবিষ্যতে ৫ম/৮ম সমাপনী পরীক্ষার সনদ ও গ্রহণযোগ্য হবে। লেখাপড়া না জানা থাকলে জন্ম সনদ, পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স দিয়ে ও আবেদন করা যাবে।

৩৭।প্রশ্নঃ আঙ্গুলের ছাপ দিয়ে কি ডুপ্লিকেট এন্ট্রিসনাক্ত করা সম্ভব?

উত্তরঃ হ্যাঁ, সনাক্ত করা সম্ভব।

৩৮।প্রশ্নঃ এক ব্যক্তির পক্ষেকি একাধিক নামেও বয়সে একাধিক কার্ডপাওয়া সম্ভব?

উত্তরঃ না। একজন একটি মাত্র কার্ড করতে পারবেন। তথ্য গোপন করে একাধিক স্থানে ভোটার হলে কেন্দ্রীয় সার্ভারে আঙুলের ছাপ দ্বারা তা ধরা পড়বে এবং তার বিরুদ্ধে মামলা হবে।

৩৯।প্রশ্নঃ নতুন ভোটার হওয়ার ক্ষেত্রে কি কি কাগজ পত্রাদি প্রয়োজন?

উত্তরঃ জন্ম নিবন্ধন সনদ, এস,এস,সি বা সমমানের পরীক্ষা পাসের সনদ (যদি থাকে), ঠিকানা প্রমানের জন্য কোন ইউটিলিটি বিলের কপি, নাগরিক সনদ, বাবা-মা এবং বিবাহিত হলে স্বামী/স্ত্রীর NID কার্ডের ফটোকপি, পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স, TIN নম্বর (যদি থাকে)।

৪০।প্রশ্নঃ আমি খুব দরিদ্র ও বয়স ১৮বছরে রকম।১৮ বছরে রউপরে বয়স দেখিয়ে একটি ID Card পেলে গার্মেন্টেস ফ্যাক্টরিতে বা অন্য কোথাও চাকুরী পেতে পারি।মানবিক কারণে এই পরিস্থিতি বিবেচনা করা যায় কি?

উত্তরঃ না। ১৮ বছর বয়স পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।মানবিক বিবেচনার কোন সুযোগ নেই।

৪১।প্রশ্নঃ আমি ভুলে দু’বার রেজিস্ট্রেশন করে ফেলে ছি এখন কি করবো?

উত্তরঃ যত দ্রুত সম্ভব বিষয়টি সংশ্লিষ্ট জেলা নির্বাচন অফিসে লিখিতভাবে ক্ষমা প্রার্থনা জানান। বর্তমানে Finger Print Matching কার্যক্রম চলছে। অচিরেই সকল Duplicate Entry সনাক্ত করা হবে। উল্লেখ্য, যা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

৪২।প্রশ্নঃ ID Card আছে কিন্তু ২০০৮ এর সংসদ নির্বাচনের সময় ভোটার তালিকায় নাম ছিল না।এরূপ সমস্যা সমাধানের উপায় কি?

উত্তরঃ অবিলম্বে NID Registration Wing/ উপজেলা/ জেলা নির্বাচন অফিসে যোগাযোগ করুন।

৪৩।প্রশ্নঃ এক জনের কার্ডঅ ন্যজন সংগ্রহ করতে পারবে কি না?

উত্তরঃ ক্ষমতাপত্র ও প্রাপ্তিস্বীকার রশিদ নিয়ে আসলে সংগ্রহ করা যাবে।

৪৪।প্রশ্নঃ আপনারা বিভিন্ন ফরমের কথা বলেছেন? এগুলো কোথায় পাওয়া যাবে?

উত্তরঃ NID Registration Wing/উপজেলা/জেলা নির্বাচন অফিসে যোগাযোগ করে সংগ্রহ করা যাবে অথবা Website : http://www.ecs.gov.bd বা http://www.nidw.gov.bd থেকে ডাউন-লোড করা যাবে।

৪৫।প্রশ্নঃ এইসমস্ত ফরমের জন্য কোন মূল্য পরিশোধ করতে হয় কি না?

উত্তরঃ না।

জাতীয় পরিচয়পত্র হারিয়ে গেলে করণীয়

৪৬।প্রশ্নঃ কার্ডের তথ্য কিভাবে সংশোধন করা যায়?

উত্তরঃ এনআইডি রেজিস্ট্রেশন উইং/উপজেলা/থানা/জেলা নির্বাচন অফিসে ভুল তথ্য সংশোধনের জন্য আবেদন করতে হবে। সংশোধনের পক্ষে পর্যাপ্ত উপযুক্ত দলিলাদি আবেদনের সাথে সংযুক্ত করতে হবে।

 

৪৭।প্রশ্নঃ কার্ডে কোন সংশোধন করা হলে তার কি কোন রেকর্ড রাখা হবে?

উত্তরঃ সকল সংশোধনের রেকর্ড সেন্ট্রাল ডাটাবেজে সংরক্ষিত থাকে।

 

উল্লেখ্য, ১ সেপ্টেম্বর থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র নবায়ন এবং হারানো বা নষ্ট হলে নতুন জাতীয় পরিচয়পত্র নেয়ার জন্য আলাদা আলাদা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে, যা বর্তমানে লাগেনা।

 

পরিচয়পত্র নবায়ন করতে সাধারণ ১শ’ টাকা ও জরুরি ১৫০ টাকা দিতে হবে। হারিয়ে ফেললে বা নষ্ট হলে নতুন পরিচয়পত্র নিতে প্রথমবার আবেদনে ২শ’ টাকা, জরুরি ভিত্তিতে ৩শ’ টাকা। দ্বিতীয়বার আবেদনে ৩শ’ টাকা জরুরি ভিত্তিতে ৫শ’ এবং পরবর্তী যে কোনো ৫শ’ টাকা ও জরুরি প্রয়োজনে ১ হাজার টাকা দিতে হবে ।

 

বর্তমানে ৯ কোটি ৬২ লাখেরও বেশি ভোটারের জাতীয় পরিচয়পত্র রয়েছে। তাদেরকে বিনামূল্যে লেমিনেটে পরিচয়পত্র দেয়া হয়। এর মেয়াদ রয়েছে ১৫ বছর। এ সময়ের পরেই নবায়ন করা যাবে এ পরিচয়পত্র। তবে হারানো বা নষ্ট হলে গেলে ডুপ্লিকেট পরিচয়পত্র সংগ্রহে ইসির পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগে আবেদন করতে হয়। এ আবেদনের মাধ্যমে এতদিন বিনামূল্যে পরিচয়পত্র সংগ্রহ করা যেত। এখন থেকে নির্ধারিত ফি ইসি সচিব বরাবর পে অর্ডার বা অনলাইন ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে জমা দিয়ে পরিচয়পত্র সংগ্রহ করতে হবে।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/আরকে

WordPress.com weblog

Probir's Weblog

WordPress.com weblog